
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমিন হ*ত্যা: একাই যে সব ঘটিয়েছে চালক সুমন!
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৩) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া একটি সিএনজি অটোরিকশার সূত্র ধরে মূল অভিযুক্ত চালক মো. সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় তাজমিন। এরপর তার মোবাইল ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, সে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং পরে কক্সবাজার যায়। গত ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে ফিরে রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে সে। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে একা ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়।
তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, কুমিল্লা শহরের রেসকোর্সের বাসায় ফেরার জন্য গভীর রাতে একা একটি সিএনজি অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। এ সময় তার হাতে থাকা একটি আইফোনের প্রতি লোভ জন্মায় চালক সুমনের। মাদকাসক্ত অবস্থায় সিএনজি চালানোর সময় সে নির্ধারিত শহরের পথে না গিয়ে গাড়িটি ভিন্ন ও জনমানবহীন উল্টো পথে চালাতে শুরু করে।
একপর্যায়ে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের একটি ফসলি জমির কাছে গিয়ে সিএনজিটি থামে এবং কাদায় দেবে যায়। সুমন নেশাগ্রস্ত থাকায় গাড়িটি আর তুলতে পারেনি। বাধ্য হয়ে হত্যাকাণ্ডের পর সিএনজিটি ঘটনাস্থলেই ফেলে সে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরদিন গত ৮ অক্টোবর সকালে ওই এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ এবং তার পাশ থেকে পরিত্যক্ত সিএনজিটি উদ্ধার করে পুলিশ। অটোরিকশার মালিকের তথ্য ধরে ভাড়ায় চালক সুমনকে শনাক্ত করা হয় এবং গত শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের আইফোনটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার সুমন একাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে তাজমিন কেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কক্সবাজার গিয়েছিল, সেখানে কার সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল এবং হত্যার আগে সে অন্য কোনো নির্যাতনের শিকার হয়েছে কি না—তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও অধিকতর তদন্তের পর নিশ্চিত করা যাবে।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, প্রযুক্তিগত সহায়তা, সিসিটিভি ফুটেজ এবং আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের সব রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।



