কেউ খারাপ ব্যবহার করেনি, তবে নিজেরই লজ্জা লাগে!

নেতৃত্বের রোমাঞ্চের কথা আগে বলেছিলেন তাসকিন আহমেদ। এখন কাঁটার আঘাতও অনুভব করছেন। দল যে একের পর এক ম্যাচ হেরেই চলেছে! ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকপক্ষ থেকে অবশ্য কোনো চাপ দেওয়া হয়নি বা তাদের আচরণে কোনো বদল আসেনি। তবে দলের পারফরম্যান্সে নিজেরই খারাপ লাগছে বলে জানালেন দুর্দান্ত

ঢাকার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক। বিপিএলে এবারই পথচলা শুরু হয়েছে দুর্দান্ত ঢাকা ফ্র্যাঞ্চাইজির। তাদের শুরুটাও ছিল স্বপ্নের মতো। প্রথম ম্যাচেই তারা হারিয়ে দেয় টুর্নামেন্টের ফেভারিট ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে। কিন্তু ৯ ম্যাচ শেষে ওই জয়টিই তাদের সম্বল। টানা ৮ ম্যাচে হারার বিব্রতকর এক রেকর্ড সঙ্গী হয়েছে তাদের। মোসাদ্দেক হোসেনের নেতৃত্বে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল দলটি। ষষ্ঠ ম্যাচের পর হাঁটুর ব্যথার

কারণে আর খেলতে পারছেন না এই অলরাউন্ডার। তার জায়গায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন সহ-অধিনায়ক তাসকিন। কিন্তু দলের ভাগ্যে পরিবর্তন আসেনি। অভিজ্ঞ পেসারের নেতৃত্বেও টানা তিন ম্যাচ হেরেছে ঢাকা। ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামন্টে কোটি কোটি টাকা খরচ করে দল গড়া হয়। পরে মাঠের ফলাফলে প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তি না মিললে হতাশাও আসে। এবার দুর্দান্ত ঢাকা যেমন মাঠের পারফরম্যান্সে দুর্দান্ত নয় একদমই। ৯ ম্যাচে স্রেফ ২ পয়েন্ট নিয়ে তারা পয়েন্ট তালিকার

তলানিতে। পারফরম্যান্স প্রত্যাশিত না হলেও অবশ্য দলের মালিকপক্ষ বা ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে কোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত আচরণ মেলেনি বলেই জানালেন তাসকিন। ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে রোববার হেরে যাওয়ার পর তিনি বললেন, তারা নি”’জেরাই বরং বিব্রত। “ব্যব”’হার কেউ খা”’রাপ করেনি। তবে নি”’জেরই একটু ল”’জ্জা লাগে। অ”নেক প্র”’ত্যাশা নিয়ে তো দলে নেয়

আমাদেরকে, (টাকা) খরচ করে অনেক আশা নিয়ে। তার পর যখন দল ফল পায় না, নিজেরই খারাপ লাগে। আমি আমার দিক থেকে শতভাগ দিয়ে চেষ্টা করছি। এটা আমার হাতে আছে। এই তো।” “হ্যাঁ হ্যাঁ, সবাই নিচ্ছে (খোঁজখবর)…. দলে যারা আছেন… আজকেই লাঞ্চ করেছি সবাই একসঙ্গে… এখানে সমস্যা নেই।” বিপিএলে এবারই প্রথম

নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা হলো তার। প্রথম ম্যাচের পর তিনি বলেছিলেন সেই রোমাঞ্চের কথা। তবে টানা পরাজয়ে রোমাঞ্চ উবে যাওয়ারও কথা। তিনি অবশ্য বললেন, দায়িত্ব উপভোগ করার চেষ্টা করছেন। “কাজটা খুব সহজ নয়। এই প্রথম করলাম, তিনটি ম্যাচে। অনেক কিছু খেয়াল রাখতে হয়। অবশ্যই এতে ম্যাচ সচেতনতা অনেক

বাড়বে। ভবিষ্যৎ তো কালকে কী হবে, এটাই জানি না। স্রেফ মুহূর্তটি উপভোগ করার চেষ্টা করছি।” ৯ ম্যাচে স্রেফ ১ জয় প্রত্যাশিত না হলেও কাগজ-কলমের শক্তিতে টুর্নামেন্টের পেছনের সারির দলগুলিরই একটি দুর্দান্ত ঢাকা। তাসকিনই সম্ভবত এই দলের সবচেয়ে বড় তারকা। গত বিপিএলেও ঢাকার ফ্র্যাঞ্চাইজি ঢাকা ডমিনেটর্সে

ছিলেন তিনি। সেবারও খুব ভালো দল গড়ে পারেনি ওই ফ্র্যাঞ্চাইজি। এর আগের বিপিএলে তিনি ছিলেন রংপুর রেঞ্জার্সে। খুব ভালো দল ছিল না তারাও। এ নিয়ে একটু হতাশাও আছে তাসকিনের মনে। তবে বাস্তবতাও তিনি মেনে নিচ্ছেন। “হ্যাঁ, অবশ্যই… মাঝেমধ্যে এই অনুভূতি হয় যে আমাদের দল (যদি আরও ভালো হতো)…। এই নিয়ে

তিনটি বছর প্লে অফে যায়নি বা ফল ভালো করেনি দল। মাঝেমাঝে খারাপ লাগে।” “তবে সেদিনও বলেছি, সরাসরি চুক্তিতে বা আইকন ক্রিকেটার হিসেবে দলে নেওয়া যায় এবং ভালো সুবিধা পেলে আমি সরাসরি চুক্তিতে যাই। এরপর দল ওইভাবে ফলাফল না পেলে খারাপ লাগে। তবে কিছু করার নেই আসলে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *